
জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া:-
কৃষ্ণনগরে সংঘর্ষে আহত ৪, গুরুতর পরিমল • মদন ও স্বজনদের পলাতক থাকার অভিযোগ • মা ও প্রেমিকাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ পরকীয়ার অভিযোগ, মোবাইল চুরির সন্দেহ, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং গরু বিক্রির টাকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—এসব ঘটনায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পরিমল মণ্ডল (৫৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে । এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবলু মণ্ডল ওরফে মদন এবং তাঁর কয়েকজন স্বজন পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সোমবার মদনের মা বাসতি মণ্ডল ও কথিত প্রেমিকা টুলু মণ্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।মোবাইল চুরির সন্দেহে বাড়িতে হামলার অভিযোগস্থানীয়দের ভাষ্য, বাবলু মণ্ডনের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর সেটি চুরির সন্দেহে টুলু মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। পরে রবিবার রাত ৮টার দিকে ধারালো দা, শাবল ও লাঠি নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।আহতদের মধ্যে পরিমল মণ্ডল, তাঁর ছেলে প্রতুল মণ্ডল (২৪), রনি মণ্ডল (১৫) ও ডা. ওমর মণ্ডল (৩৭) রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিমল মণ্ডলের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ডঃ ওমরকে স্থান ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল রায়ের দাবি, মোবাইল চুরির সন্দেহ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। পিলাবন মণ্ডল (১৮) বলেন, হামলার সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। অজিত মণ্ডল (৬৫) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।গরু বিক্রি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়, বাকি ২০ হাজার কোথায়?সংঘর্ষের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মদনের বাড়ির দুটি গরু ও বাছুর বিক্রি নিয়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে বাছুরসহ গরু দুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির টাকা ও বিক্রির অনুমতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।শাহপুর গ্রামের কুন্ডুপাড়ার পলাশ (৪৫) জানান, উত্তম মণ্ডলের ফোন পেয়ে তিনি গিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বাছুরসহ গরু দুটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে বাসতি মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁকে দিয়ে জোর করে গরু বিক্রি করানো হয়েছে এবং তিনি এক লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানেন—বাকি ২০ হাজার টাকা কোথায়, তা তাঁর জানা নেই। এ অভিযোগ করেন তিনি।মা ও প্রেমিকাকে আটকের কথা রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালালেও কাউকে আটক করা যায়নি। সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে বাসতি মণ্ডল ও টুলু মণ্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মামলার অগ্রগতির মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে বাসতি মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে সমারেশ মণ্ডলের বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং মারধর করা হয়েছে। টুলু মণ্ডলও তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর ও তালা মেরে আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন।পুলিশের কাছে গরু উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত গরু উদ্ধারের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।পলাতকদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিঘটনার পর কৃষ্ণনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর এবং গরু বিক্রির অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগ—সবকিছুর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।তবে এ ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, গরু বিক্রিতে স্থানীয় উওম মন্ডলের নাম সামনে আশে টাকা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় এখনো তদন্তসাপেক্ষ। গরু বিক্রির ঘটনায় উত্তমকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
